
আহতদের পরিচয়: আহতরা হলেন—ওই গ্রামের মৃত ধলা মুন্সীর ছেলে হায়দার মুন্সী (৪৬) ও সুজন মুন্সী (৩১)। তারা দুজনেই পেশায় রাজমিস্ত্রি। হায়দারের গুরুতর অবস্থার কারণে তাকে রাতেই ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিরোধের ইতিহাস: স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের কালাম মন্ডল ও সুজন মুন্সীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধ ছিল। গতকাল বিকেলে স্থানীয় একটি বৈশাখী মেলায় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
হামলার চিত্র: এর পর সন্ধ্যায় কালাম মন্ডল, সাত্তার মন্ডল ও শাহ বরাত মন্ডলসহ একদল দুর্বৃত্ত সুজন মুন্সীর ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজনের বাম হাতের কবজিতে কোপ দেয়। কিছুক্ষণ পর বড় ভাই হায়দার মুন্সী বাড়ি ফেরার পথে তাকেও আক্রমণ করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে হায়দার পাশের একটি রান্নাঘরে আশ্রয় নিলে সেখানেও দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
মেডিকেল রিপোর্ট: চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, হায়দারের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। তার একটি হাত ও একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ফরিদপুর পাঠানো হয়েছিল। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টার থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। অপর ভাই সুজন বর্তমানে ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সুজনের অভিযোগ: আহত সুজন মুন্সীর দাবি, কয়েক বছর আগে একটি মারামারির মামলায় সাক্ষী দেওয়ায় কালাম মন্ডল তাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল মোল্লা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে পরিচিত।
পুলিশের মন্তব্য: চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলা ঘটেছে। আহতদের মা নিরু বেগম বাদী হয়ে কালাম মন্ডলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।"
অভিযুক্তদের পালানো: ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কালাম মন্ডল ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
তথ্যসূত্র: ফরিদপুর প্রতিনিধি ও পুলিশ।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।